উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস

Tripoto
Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

বোধনে দেবী প্রতিমার অস্ত্রসজ্জা (চিত্রঋণ- ফ্লিকার, রামকৃষ্ণ মঠ)

Photo of Kolkata, West Bengal, India by Never ending footsteps

করোনা আবহের এই পরিস্থিতিতে, অদৃশ্য এক আনুবীক্ষণিক জীবাণুর দাপটে মানুষ আজ ঘরবন্দি। কার্যত এই করোনা পরিবেশ-পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে আমাদের সামগ্রিক জীবনচর্যাকে। গৃহবন্দি এই সময়ে আমরা প্রত্যেকেই নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়েছি। ‘নিউ নরমাল’-এর বিশেষ কিছু বিধি নিয়মের সঙ্গে নিজেদেরকে অভ্যস্ত করতে শিখেছি, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। বাহ্যিক আতিশয্যের আবরণকে ভুলে গিয়ে অনেকাংশে নিতান্ত সাধারণ, সামান্য বিষয়ের প্রতি আমাদের একপ্রকার আগ্রহ তৈরি হয়েছে... এই পর্বেই। যা কিছু এতদিন ছিল চোখের সামনে কিন্তু আলাদা করে তার উপস্থিতিকে আমরা অনুভব করতে শিখে উঠতে পারিনি, সেই সব না-শেখা, না-জানা বিষয়গুলো যেন একসঙ্গে জুড়ে গিয়ে একটা সামগ্রিক নতুনের সূচনা করেছে।

মহামারীর প্রকোপ এখনও কমেনি। কমেনি মৃত্যুহারও। ভ্যাক্সিন এবং উন্নত চিকিৎসা বিষয়ক আশাপ্রদ কোনও তথ্যও এই মুহূর্তে হাতের কাছে নেই। কিন্তু এইসব ক্লান্তি, এই মৃত্যুভয়, এই জড়তার ভিড়েই রয়েছে ক্ষীণ আনন্দ সংবাদ... ‘মা আসছেন’। বছর পরে আবারও আকাশ ঘিরে আগমনীর সুর। যে সুরের সূচনা রয়েছে নীল আকাশে, পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের আড়ালে, রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে, শিউলি ফুলের সুমিষ্ট গন্ধে। এই আগমনীর সুর মিশে থাকে মহালয়ার ভোরে শ্রীবীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানের আড়ালে। আর এই আগমনী সূচনাতেই ঘটে চলে মাতৃপক্ষের পবিত্র আবাহন। শুধুমাত্র বাঙালি জাতির কাছেই নয়, দুর্গোৎসবের আনন্দ, এই উৎসবের সম্প্রীতি, এই উৎসবের সর্বজনীন আয়োজনের রেশ রয়েছে সর্বত্র। সর্বধর্মের মানুষের কাছেই এ যেন এক মহামিলনের যজ্ঞ। মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার দশহাতে দশ অস্ত্র। তিনি অসুরবিনাশিনী, তিনি অভয়প্রদায়িনী। তিনি দুষ্টের দমনে শিষ্টের প্রতিপালক। আর মহামিলনের এই মহাযজ্ঞের শ্রেষ্ঠ ঠিকানা ‘কল্লোলিনী তিলোত্তমা’। কলকাতা শহর। দুর্গোৎসবের ওই পাঁচটা দিনই যেন বাঙালি তথা সর্ব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এক অসীম শক্তি সঞ্চয়ের উপায়। দিন-রাত্রির হিসেব এই আনন্দ সমারোহে মেলে না। প্রবাসী বন্ধুর আলাপনে বা পাড়ার মণ্ডপে রাতভোর জেগে আড্ডায় কখন যে সময়ের ঘড়ি এগিয়ে যায়। আর মায়ের বিদায়ের লগ্ন এসে হাজির হয় তার কোনও হদিশও মেলে না। সবকিছুই যেন চোখের পলকে এক নিমেশে ঘটে যায়... আর মাকে বিদায় দিয়ে আবার বছর পর এক নিরন্তর অপেক্ষার প্রস্তুতি চলতে থাকে। ‘আবার এসো মা’… করোনা পরিবেশের এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সর্বজনীন দুর্গোৎসবের আয়োজন ঠিক কেমন হবে আমরা কেউই জানি না কিন্তু মনের মধ্যে সবারই সুপ্ত আশা রয়েছে ‘মা সব ঠিক করে দেবেন আবারও’।

আপদকালীন এই পরিস্থিতিকে একটু দূরে সরিয়ে রেখে আমরা বলতে পারি, দশভূজা বা মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি নির্মিত হয় কলকাতার জনপ্রিয় কুমোরটুলি পাড়ায়। প্রথমে খড় দিয়ে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো নির্মাণ করে মৃৎশিল্পীরা স্তরে স্তরে প্রতিমা নির্মাণ করেন। এখন অবশ্য কুমোরটুলি পাড়াতে ঢু মারলে সনাতন প্রথায় মূর্তির পাশাপাশি আপনার চোখে পড়বে আধুনিক মনন এবং চিন্তনসমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রতিমা।

ঢাকের তালে প্রথাগত ধুনুচি নাচ (চিত্রঋণ- দ্য নোমাডিক বং, ইনস্টাগ্রাম)

Photo of Kolkata, West Bengal, India by Never ending footsteps

উত্তর কলকাতার হুগলি নদীর কাছাকাছি এই অঞ্চলটি ভারতে বিশেষ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসনের সময়েই বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে। ব্রিটিশ শাসকেরা যখন নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোকে ভাগ করছিলেন, তখন তাঁরা কোনও একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী মানুষদের পেশা বা জীবিকা অনুসারে স্থানের নামকরণ করেছিলেন। ঠিক এইরকমভাবেই ‘কুমোর’ অর্থাৎ মৃৎশিল্পের বা মাটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জীবিকার উপরে ভিত্তি করে, 'কুমোরটুলি' নামটি রাখা হয়। উত্তর কলকাতার রয়েছে এই ‘কুমোরটুলি’। এখানকার ভাস্করগণ প্রাথমিকভাবে মাটির পাত্র, জাহাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি শুরু করেছিলেন।

কুমোরটুলি পাড়া এবং ভাস্কর্যশিল্পীদের কর্মশালা

Photo of Kumartuli Idol Maker, Kumartuli Street, Sovabazar, Sector 1, Shobhabazar, Kolkata, West Bengal, India by Never ending footsteps

কয়েকমাসের এই নিরন্তর পরিশ্রমের পরে দেবীর আবার স্বর্গে ফিরে যাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। আনন্দঘন-উৎসবের স্মৃতিটুকু নিয়ে আবারও একবছরের প্রতীক্ষাতে বাঙালি তথা আপামর উৎসবপ্রেমী মানুষ দিন গুনতে থাকে।

সিঁদুর খেলা, মিষ্টিমুখে মা-কে বিদায়... আনন্দযজ্ঞের সমাপ্তি।বছরপর অপেক্ষা ।

Photo of Babughat, Strand Road, B.B.D. Bagh, Kolkata, West Bengal, India by Never ending footsteps

কুমারটুলি অঞ্চলটি যদি আপনি ঘুরে দেখেন, তাহলে কারিগর এবং ভাস্কর্যকলায় পূর্ণ প্রায় ৪৫০ কর্মশালার সন্ধান পেতে পারেন। প্রসঙ্গক্রমে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে কুমোরটুলি অঞ্চলে যে সকল মৃৎশিল্পীরা রয়েছেন ,তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের পারিবারিক প্রথাতেই এই পেশার সঙ্গে সংযুক্ত। ভাস্কর্যশিল্পীদের নিজস্ব পারিবারিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রতিমা বানানোর কৌশল এবং রীতি-নীতির সঙ্গেও একধরনের সম্পৃক্ততার সুর জড়িয়ে রয়েছে।

কলোনিয়াল বা ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের সূচনায়, ১৭৫৭ সালে, লর্ড ক্লাইভ শোভাবাজারের জমিদার নবকৃষ্ণ দেবকে দুর্গাপূজা একটি বৃহত্তর স্তরে উদযাপন করার জন্য প্ররোচিত করেছিলেন। এর পিছনে ক্লাইভের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল তিনি বাংলার সংস্কৃতি, বস্তুত তিনি বাঙালি ঐতিহ্য-পরম্পরাকে নিজের চোখে দেখতে এবং চেনতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় ক্লাইভ নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেবীকে নৈবেদ্য উত্সর্গ করেছিলেন। সূচনাটা কিঞ্চিত এরকমই ছিল। কিন্তু এরপরেই সর্বজনীন দুর্গোৎসবের ধারণার বদল ঘটে। কলকাতার বিভিন্ন জমিদারবাড়িতেই অঘোষিত আড়ম্বরপূর্ণ দুর্গাপুজো আয়োজনের একধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একধরনের প্রচ্ছন্ন প্রভাবশালী হয়ে ওঠার লড়াইও এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। আর একইভাবে সাবেকি প্রচ্ছন্ন লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে পাড়ায় পাড়ায়, বহুবর্ণিল, আলোকোজ্জ্বল মণ্ডপসজ্জার রীতি এবং দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ে। ক্ষেত্র বিশেষে আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যাভিত্তিক প্যারামিটারের উপরে নির্ভর করেই পুজো উদ্যোক্তাদের সামগ্রিক সফলতা নির্ভর করে থাকে।

প্রতিমা নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে শিল্পীরা খড়ের কাঠামো তৈরি করে থাকেন

Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে ব্রাহ্মণবর্গের উপরেই পুজো পরিচালনার সামগ্রিক দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ভাস্কর্যশিল্পীরা তাঁদের নিজ নিজ কল্পনা অনুসারে দেবদেবীর প্রতিমা নির্মাণ করে থাকেন এবং এই নির্মাণ কৌশল যে অনেকাংশেই বাঙালি রমণীর প্রথাগত সৌন্দর্যকেন্দ্রিক তা বলতে কোনও দ্বিধা নেই। কিন্তু ভাস্কর্য শিল্পীদের কাছে পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে অসুর তৈরির কোনও পূর্বপরিকল্পিত ধারণা ছিল না। তাই অনেকেই মনে করেন, গ্রীক দেবদেবীদের উপর ভিত্তি করে অসুরের চেহারাতে একধরনের পুরুষালি বলা ভাল মাসকুলিন চেহারার আদল দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে আরও একটা মজার বিষয় হল, যেহেতু ভাস্কর্য শিল্পীরা কখনও সিংহকে দেখেনি তাই তারা প্রাথমিকভাবে জন্তুটির মধ্যে হিংস্রতা দেখাতে গিয়ে ধারালো, বড় দাঁতযুক্ত একটি ঘোড়ার অয়বর নির্মাণ করেছিল। আজও রাজা নবকৃষ্ণ দেবের পুজোর সিংহটি ঘোড়ার মতো নির্মিত হয়ে থাকে।

দেবী প্রতিমার প্রতিকৃতি বা অবয়ব নির্মাণ যেন এক বিস্ময়কর রূপকথা

Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

যেসব কুমোর বা ভাস্কর্যশিল্পীরা মূর্তি তৈরির কাজ পরিচালনা করেন, তাঁদের আগে অবশ্য প্রতিমা নির্মাণ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত ঠাকুরবাড়িতে থাকারই রীতি ছিল। যাইহোক, সময়ের জোয়ারে জমিদারশ্রেণির পারিবারিক কৌলীন্য অনেকাংশেই খর্ব হয়েছে এবং একপাক্ষিক ব্যবস্থা থেকে সরে গিয়ে সর্বস্তরের সর্ববর্ণের মানুষের কাছে একপ্রকার গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে বেশ সহজেই।

দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ প্রসঙ্গে শতাব্দিপ্রাচীন একটি ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করতে হয়। ঐতিহ্য অনুসারে গঙ্গার নদীর তীর থেকে পবিত্র কাদা নেওয়া হয় দেবীর দেহরূপ তৈরি করতে। কাদামাটি অবশ্যই পতিতালয় থেকে সংগৃহীত মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হবে। প্রতিমা তৈরিতে এই অপরিহার্য উপাদানটি অবশ্য প্রয়োজন। পতিতালয় থেকে সংগৃহীত মাটি 'বৈশ্য' মাটি নামেও পরিচিত। আগে মূলত পুরোহিতশ্রেণির মানুষেরা পতিতা বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে মাটি সংগ্রহণের পূর্বে বিশেষ শ্লোক বা মন্ত্রোচ্চারণ করতেন। এই সংগ্রহের একটি বিশেষ পারম্পর্য ছিল, কিন্তু এখন কারিগররা নিজেরাই এই বাড়িগুলিতে যায় এবং নিজেরাই মাটির জন্য ভিক্ষা প্রার্থনা করে।

এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, যে শ্রেণির মানুষেরা সারাবছরই সমাজের প্রান্তিক শ্রেণি রূপে পরিচিতি পেয়ে থাকি, যাদের তথাকথিতভাবে ‘সভ্য’ সমাজের মান্যতা দেওয়া হয় না, সেই প্রান্তিক শ্রেণির ঘরের মাটি না পেলে প্রতিমা নির্মাণ প্রক্রিয়াই অসম্পূর্ণ। এই বিষয়টি সত্যিই অভূতপূর্ব। তাই আধুনিক প্রগতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সর্বশ্রেণির মানুষের একধরনের সমানাধিকারের কথা বিবেচনা করাটাই শ্রেয়। আমরা যে মাতৃরূপের আরাধনা করে থাকি, সেই মাতৃশক্তির এক অংশ কিন্তু এই শ্রেণির মানুষের মধ্যেও অন্তর্নিহিত রয়েছে। কারণ তাঁরাও নারী।

পতিতাপল্লি থেকে মাটি সংগ্রহের পিছনেও রয়েছে অন্য আরেকটি কারণ। পুরাণ অনুসারে দুর্গার সৌন্দর্যে মোহিত মহিষাসুর তাঁর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে দেবী দুর্গার মর্যাদা-সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে, দেবী মহিষাসুরকে ধ্বংস করেছিলেন। যার একরকম অর্থ দাঁড়ায় যেসকল পুরুষ নারীর প্রতি অবমাননাকর, অপমানকর আচরণ করবেন সেই পুরুষেরই একদিন না একদিন বিনাশ হয়। অন্যদিকে জয় হবে নারীশক্তির।

এটিও বিশ্বাস করা হয় যে বেশ্যা বাড়ির বাইরের মাটি বিশুদ্ধ। কারণ যারা এখানে প্রবেশ তারা সকলেই নিজেদের পাপ-পুণ্য এবং পবিত্রতার ধারাবাহিক চিন্তাধারা পতিতাপল্লির দ্বারের কাছেই রেখে যান। তাই এই মাটি পবিত্র। এই আচারটি আবার পতিতাদের শুচি করার বিষয়েও একধরনের চিন্তাধারা প্রচলিত রয়েছে। তাঁদের ঘরের মাটি যখন মূর্তি তৈরির মতো পবিত্র কোনও কিছু নির্মাণে হস্তান্তরিত করে, তখন যৌনকর্মীদের আজীবনের পাপ নির্মূল হয়।

দেবী দুর্গার আবাহন ( ইউটিউব ভিডিয়ো সংগৃহীত : অর্পণ দাস)

পতিতাপল্লির মাটি শুচি বলে মান্যতা পায়

Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

মণ্ডপসজ্জায় শিল্পীদের নিপুণ শিল্পের প্রতিফলন

Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

ধর্ম ও বর্ণের প্রাতিষ্ঠানিক বিভেদ ভুলে সমস্ত শ্রেণির মানুষই মা-এর আরাধনাতে নিযুক্ত হন। মা-এর পায়ে নিজেকে সর্বোতভাবে সমর্পণ করেন প্রত্যেকেই। আন্তরিক উষ্ণতার সঙ্গে পরিবেশিত হয় ভোগ প্রসাদও। উৎসব শুরুর কয়েক মাস আগে এখানে কাজ শুরু হয়। একজন কারিগর মাটির সাথে, অন্যজন বাঁশ এবং শুকনো খড় দিয়ে মূর্তির কাঠামো তৈরি করেন। তারপর মূর্তি তৈরির পরে তাঁকে অলংকৃত করা হয়, রং করা হয় তবে মূর্তির চোখ আঁকার পর্যায়টি এই সময়ে হয় না। মহালয়ার শুভ দিনে শিল্পী তাঁর নিপুণ তুলির টানে মা-এর চক্ষুদান করেন। চক্ষুদানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভাস্কর্যশিল্পীর একধরনের আবেগঘন স্মৃতি... তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা শেষপর্যন্ত পূর্ণতা পায় এই শুভদিনে।

আজকাল অবশ্য কারিগরদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আবেগের জন্য, তাদের যথাযথ পুরস্কৃত করা হয়। আজকাল পুজো পরিচালনাতে যে প্রচুর পরিমাণে মূলধনের আদান-প্রদান চলে সেকথা নতুন নয়, জীবন এবং জীবিকার স্বার্থে তা অবশ্যই প্রয়োজন হয়ে চলেছে।

সাবেকিয়ানায় মা-এর দর্শণ ভক্তবৃন্দ

Photo of উৎসব আনন্দে ভরপুর... 'কলকাতার দুর্গাপুজো ' এবং তার ইতিহাস by Never ending footsteps

বর্তমানে প্যান্ডেল এবং প্রতিমা উভয়ের জন্য আরও নতুন এবং আরও উদ্ভাবনী নকশার আয়োজন করা হয়েছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে এই প্রকল্পগুলি পরিচালনার জন্য আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদেরও নিয়োগ করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য একটা পুজোকে কেন্দ্র করে, একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে একধরনের সৃজনী শক্তির উদ্ভাবন ঘটে চলেছে। সমকালীন মণ্ডপ এবং আলোকসজ্জাতেই তা স্পষ্ট । একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়ছে, তেমনই অন্যদিকে সনাতনী ভাবনার সঙ্গে আধুনিকতার একধরনের সংযোগও ঘটছে।

এই শিল্পের টুকরোগুলি কেবল ভারতে নয়, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার মতো জায়গাগুলিও সজ্জিত হয়। প্রয়োজনে তাঁদের আইডিয়াও( মণ্ডপ সজ্জার প্রকল্প) গৃহীত হয় বিদেশে।

নিজের বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ট্রিপোটোর সঙ্গে ভাগ করে নিন আর সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করুন।

বিনামূল্যে বেড়াতে যেতে চান? ক্রেডিট জমা করুন আর ট্রিপোটোর হোটেল স্টে আর ভেকেশন প্যাকেজে সেগুলো ব্যাবহার করুন

(এটি একটি অনুবাদকৃত/ অনুলিখিত আর্টিকেল। আসল আর্টিকেল পড়তে এখানে ক্লিক করুন!)