শুভ্র ভাস্কর।

Tripoto
Photo of শুভ্র ভাস্কর। by Abdul Hasib

বানারাস থেকে রাত 10 টায় ট্রেনে চেপে বসলাম।
গন্তব্যস্থল আগ্রা। ইন্টারসিটি ট্রেনের সূলব কক্ষে কোন মতে বসার যায়গা খুজে পেয়েছি। ইন্ডিয়ার ট্রেন গুলোর সূলব কক্ষে ভ্রমনের অনেক ভোগান্তি।
অবশ্য বাংলাদেশের লোকাল ট্রেন খুঁজেই পাওয়া যায়না আর যদি জুটেও তবে আমি সিউর বলতে পারি মানুষ্য বর্জের গন্দেই আপনার বেহাল দশা হতে বাদ্ধ। বানারাস থেকে আগ্রা প্রায় 600 কি.মি. দুরত্ব ।
আমার লক্ষ্য ছিল যত কম বাজেটে যত বেশি সংরক্ষক প্লেস ভিজিট করা যায় তাই আমি খরচ বাচাতে সূলব স্রেনিটাই প্রিপার করলাম।
যেখানে 600 কি.মি. যেতে আমার খরচ পড়ছে মাত্র আশি রুপিয়া।

যাইহোক ট্রেনে বসার যায়গা খুজে পেতে বহুত কাঠ খড় পেরুতে হয়।
আর কনো মতে একটা আসন করে নিতে পারলে তাতেও শান্তি নেই। ঝিম মেরে পড়ে থাকতে হয়। প্রকৃতির ডাকে কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনে সিট থেকে নড়ে বসলেই কস্টার্জিত আসন চলে যাবে অন্যের দখলে।অবশেষে কিচুক্ষন সিট এ বসে কিচুক্ষন দাড়িয়ে থেকে চলতে লাগলো 'তাজমহল' দর্শনের শেই কাঙ্খিত স্বপ্ন যাত্রা।
মাজরাতে যখন লখনৌ এসে ট্রেন থামল, হঠাৎ এক গাদা লোক কোত্থেকে এসে বগি ভর্তি করে দিল।
শ্বাস নিতেও কস্ট হচ্ছিলো ঠিক।
দিশা খুজে না পেয়ে বগি থেকে নেমে পড়লাম।
সাহস সঞ্চয় করে উঠে পড়লাম 1st class কক্ষে।
ভাবলাম কিইবা এমন হবে!
এখানে দাড়ানোর যায়গার অভাব নেই যদিও, কিন্তুু সূলবের টিকেট কেটে প্রথম স্রেনির কক্ষে দাড়িয়ে থাকা নিজের কাছেই কেমন বেমানান মনে হচ্ছিল। 
তারমদ্ধে আবার টি.টি র উত্পাত ত থাকছেই!
চটজলদি পুরো বগি ঘুরে দেখলাম।
নিরাশ হোতে হলো! কোন সিট পাওয়া গেলো না!
নিরুপায় হয়ে অগত্যা বাথরুমের পাশের খালি অংশে ইক্টু দাড়ানোর সুযোগ হলো।
এখানেও আমার পথের পথিক দুজন পাওয়া গেল।
ইক্টু আরাম করে শ্বাস নেওয়া যাবে অন্তত!
খানিক বাদে টি.টি এসে চার্য করে বসলো।
পালানোর আর উপায় নেই।
টিকেট চাইতেই সূলবের টিকেট খানি বের করে তার হাতে দিতে যাব অম্নি শুরু হল গালাগাল।
হিন্দি কেরালা আরো কি কি ভাসায় চোখ রাঙ্গিয়ে কি কি বোলাতে লাগলো কিচুই বুজলামনা।
আর আমার ও ভাবখানা এমন যে কিছুই বুঝিনি! !
শেষমেশ কিছু ভাঙ্গা হিন্দি কিছু ইংলিশ মিলিয়ে তাকে বুঝাতে চেষ্টা করালাম আমি ইন্ডিয়ান না!
আমি বাংগালী!
ভ্রু কুঁচকে পাঞ্জাবি টি. টি. আমাকে যা জিজ্ঞাসিল তার মানে আমি বুজলাম আমার আইডেন্টিটি চাওয়া হচ্ছে।
তাব্লিগি গাট্টির ভিতর আবার গাট্টি তার ভিতর আবার গাট্টি থেকে সযত্নে রাখা পাসপোর্ট বের করে দিলাম।এবার মনে হল কিনশিত ভাল করেই দেখেছেন ভদ্র লোক।
মনে আশা যাগলো কিন্তুু পরক্ষনেই তার কঠিন কর্কশ কন্ঠে বের হয়ে যাওয়ার আদেশ শুন্তে পেলুম।
আবার সেই সূলভ কক্ষ....!
এবং তারপর যখন ভোর হবে হবে করছিল, তখন পাশ থেকে কে জেন বলে উঠল 'তাজ আসছে '
শাহজাহানের তাজ আসছে.....!
ট্রেনের দর্জায় মুখটা বের করে আধো আধো বিশ্ময়কর চোখে অধীর হয়ে আছি তাজ দেখব বলে!
দুরে যমুনা দেখা যাচ্ছে। বুকের ভিতর কম্পন বেড়ে যাচ্ছে সেটা টের পাচ্চি। ঘুম ক্লান্তি আর রাতের কস্ট কই যেন উধাও। চোখে ভর করছে কোটি টন বিশ্ময়!
ওইযে... ! ওইতো তাজের গুম্বজ দেখা যাচ্ছে...!!!
আশ পাশের গুঞ্জন কানে আসছে। লোকদের বলতে শুনছি সেই শাহজাহানের কথা! সেই মমতাজের কথা!
অবাক বিশ্ময়ে তারা দেখছে তাজ কে।
তাদের মদ্ধে কেও হয়তো আমার মত স্মরন করছে বুকের ভিতর লালোন করা তার মমতাজ কে...!
মমতাজ বেছে থাকুক শুব্র ভাস্কর হয়ে প্রতিটি শাহজাহানের হৃদয়ে...

Be the first one to comment