ভ্রমণপিপাসু প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে কিন্তু নৌকা করে সমগ্র পৃথিবী পরিদর্শন করার সুপ্ত বাসনা থেকেই যায়। কোনও বিখ্যাত গন্তব্যস্থল থেকে শুরু করে অচেনা জায়গা, ছোট শহরের অনুভূতি অথবা কোলাহলপূর্ণ শহরের জাঁকজমকতা; প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু ভ্রমণপ্রেমীরা রোমাঞ্চ খুঁজতে পাড়ি দেয় বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কিন্তু খুব কম মানুষই সড়কপথ, রেলপথ বা আকাশপথ ছাড়া জলপথে সম্পর্ণ পৃথিবীকে চাক্ষুষ করার সুযোগ পান। আবার তাদের মধ্যেই মাত্র কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ সমগ্র পৃথিবীটা একইসঙ্গে ক্রুজ-এ চেপে ঘোরার সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন। এই ক্রুজটি আপনাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অথবা বাহামাস কিংবা হাওয়াই বা ইউরোপের ভূমধ্যসাগরের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সময় এমনকিছু আকর্ষণীয় এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করবে, যা হয়তো চিরকাল আপনার কাছে অব্যক্ত থেকে যাবে।
বিশ্ব সমুদ্র ভ্রমণের জন্য এমএসসি ক্রুজ:
যে সমস্ত ভ্রমণপিপাসুরা মহাসাগরের মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবীকে নতুন ভাবে চিনতে চান, তাদের জন্য এই কোম্পানি বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুযোগ প্রদান করে থাকে।
এমএসসি ম্যাগ্নিফিকা ভ্রমণকারীদের সমগ্র বিশ্ব সমুদ্রভ্রমণে নিয়ে যায় তাদের বিলাসবহুল ক্রুজ-এ। মাত্র ১১৯ দিনে এরা ভ্রমণকারীদের সঙ্গে বেশিরভাগ মহাদেশের পরিচয় করিয়ে দিতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, ৫ই জানুয়ারি ২০১৯ সালে ইতালির জেনোয়া শহর থেকে এই যাত্রাটি শুরু করে এবং এই ১১৯ দিনের যাত্রায় তারা ৩২টি দেশে মোট ৪৯টি বিরতি নেয় এবং ৩রা মে ২০১৯ সালে পুনরায় যাত্রা শুরুর গন্তব্যস্থানে ফিরে আসে।
এই ১১৯ দিনগুলোর মধ্যে ৫৮ দিন কাটবে সমুদ্রেবক্ষে, এর সঙ্গে দুইদিন পানামা এবং সুয়েজ ক্যানেলে থাকার সুযোগ পাবেন। পরবর্তী ৬১ দিন বিশ্বের বেশকিছু সুপরিচিত জায়গা যেমন- ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইউএসএ, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউএই ঘুরে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচেনা কিছু গন্তব্যস্থল যথা- আমেরিকান সামোয়া, ওয়েস্টার্ন সামোয়া, টঙ্গা, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া এবং কার্টেজেনা ক্রমশ প্রবেশ করবে।
এই বিশ্ব সমুদ্র ভ্রমণ শুরু হয় কয়েকটি বিখ্যাত ইউরোপিয়ান বন্দর যেমন- ফ্রান্সের মার্সেই, স্পেনের বার্সেলোনা, মালাগা এবং পর্তুগালের ফুনচাল থেকে। তারপরেই আপনি আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে ক্যারাবিয়ানের সেন্ট মার্টিন, পুয়ের্টোরিকো এবং আরও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারবেন। ইউএসএ-তে লস এঞ্জেলেস, হাওয়াই এবং পলিনেশিয়া মত শহরগুলোতে আপনি বেশ কিছুদিন থাকতে পারবেন। সাথে এখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি এবং আশেপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করে আপনি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সামিল হতে পারেন। এই জাহাজটি টঙ্গা এবং বোরা বোরা-র মতো দূরবর্তী গন্তব্য স্থানগুলোও আপনাকে দর্শন করাবে।
ইউএসএ থেকে আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে দিয়ে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং মালদ্বীপ প্রবেশ করবে। সবশেষে, সুয়েজ ক্যানেল অতিক্রম করে জাহাজটি গিয়ে পৌঁছবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইউএই এবং ওমান দেশে। এরপর জর্ডন বন্দরে জাহাজটিকে প্রতিস্থাপন করে এখানকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান যেমন আকাবা এবং মিশর ঘুরে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে আবার জাহাজটি ইউরোপে ফিরে আসবে এবং এই যাত্রা শেষ হবে মনমুগ্ধকর জায়গা গ্রিস দর্শনের মাধ্যমে।
এই বিশ্ব সমুদ্র ভ্রমণে আপনি ১৫ টি উপকূল পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তার মধ্যে অন্যতম হল লেগুন স্নোর্কেলিং, ন্যাশনাল পার্ক ট্যুরস, সিটি ট্যুরস ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি আপনার ইচ্ছা পূরণের জন্য ফুড ট্যুরস, গাইডেড শপিং ট্যুরস-এর মতো বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

এই জাহাজটি অত্যন্ত বিলাসবহুল। এখানে ইন্টেরিয়ার স্টেট রুম, রুম উইথ পার্শিয়াল ওশান ভিউ, ওশান ভিউ রুম, ব্যালকনি স্টেট রুম এবং সুইটসের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই জাহাজে চারটি রেস্তোরাঁ এবং ১১ টি বার রয়েছে। যে দুটি রেস্তোরাঁ আপনাদের দুপুর এবং রাতের খাবার বুফে হিসাবে পরিবেশন করে, তারাই সর্বক্ষণ অফুরন্ত ওয়াইন (সাদা লাল এবং গোলাপি), বিশুদ্ধ পানীয় জল, ড্রট বিয়ার এবং সফ্ট ড্রিংস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করবে।
নিচে একটি সম্পূর্ণ ভিডিও দেওয়া হল, যেটির সাহায্যে আপনি বিশ্ব সমুদ্র ভ্রমণ করার বিভিন্ন জায়গা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন এবং যে জায়গাগুলো আপনি ঘুরতে দেখতে চান সেগুলো সম্বন্ধে আপনি জানতে পারবেন।
বর্তমানে যদি আপনি এমএসসি ভয়েজার্স ক্লাবের সদস্য হন তাহলে এই বিশ্ব সমুদ্র ভ্রমণের টিকিট ১৬৯৯৯ ডলার অথবা ১২৫৮৯ ইউরো অথবা ১০ লাখ টাকায় পাবেন।





















