বাবা-মায়েদের জন্য বলছি ছেলে-মেয়েদের একা ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েই দিন এবার না হয়! কারণ ?

Tripoto
Photo of বাবা-মায়েদের জন্য বলছি ছেলে-মেয়েদের একা ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েই দিন এবার না হয়!  কারণ ? 1/1 by Never ending footsteps
সোলো ট্রিপের আনন্দ (ছবি : সংগৃহীত)

আমাদের ভারতীয়দের মধ্যে বিশেষ কিছু প্রথাগত চিন্তাধারা লক্ষ করা যায়। সামাজিক নিরাপত্তার কারণেই হোক কিংবা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নির্ভর ব্যবস্থা কারণে সাধারণত মেয়েদের অপেক্ষাকৃত কম স্বাধীনতা দেওয়া হয়ে থাকে। এইক্ষেত্রে ব্যতিক্রম অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু মেয়েরা বা একদল মেয়ে মিলে ঘুরতে যাওয়ার প্রসঙ্গ এলেই বাবা-মায়েরা এবং পরিবারের অন্যান্যরাও সহজে অনুমতি দিতে চান না। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় ছবি ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবিতে সিমরনের সেই বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে ঘুরতে যাওয়ার দৃশ্যটি। বলা যায়, এই সংকোচ এই দ্বিধা প্রত্যেকটি ভারতীয় পরিবারের মেয়েরাই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে সম্মুখীন হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে বাবা-মায়েদেরও দোষে দেওয়া যায় না কারণ-আমাদের দেশ এখনও মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। তবে ভারতের এমন কিছু রাজ্য এবং অঞ্চল মেয়েদের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ এমনটা বলতেই পারি। সুতরাং একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে সোলো ট্রিপের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন ট্রিপ অবশ্যই করা যেতে পারে। আমাদের প্রতিবেদনের আসল লক্ষ্যই হল সেইসব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

আত্ম আবিষ্কার-

ভ্রমণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই হল নিজেকে একপ্রকার আবিষ্কার করা। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বোধ জাগিয়ে তোলা। আমাদের সমাজের প্রতিটি নারীরই আত্মসচেতনতার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়াটাও বিশেষভাবে প্রয়োজন। ছোটবেলায় আমারা প্রত্যেকেই বাবা-মা-র চিন্তাধারা, তাঁদের ঠিক করে দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে চলে এসেছি। প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছেও যে বিষয়টা একেবারেই চলে না, এমনটা নয়। তবে কোনও ভ্রমণ যদি পরিবারের সদস্য ছাড়া আপনারা করার চেষ্টা করেন তাহলে দেখবেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার প্রবণতা আপনাদের মধ্যে আরও বেশি করে দেখা দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে পারে, ভ্রমণের বাজেট সংক্রান্ত বিষয় থেকে অন্যান্য আরও অনেক বিষয়। পরিকল্পনামাফিক কাজ করার ফলে ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে একধরনের আত্মবিশ্বাসের বোধ দেখা দেবে। আত্মসচেতনও হতে পারবেন আপনি। নিজের পছন্দ এবং অপছন্দের বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি হঠকারি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া প্রয়োজন তাও শিখবেন একটু একটু করে। গ্রুপ ট্রিপ হলে নিজের যাবতীয় অনুভূতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত সেই সম্পর্কেও আপনাদেরও ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। সুতরাং, বলা যায় ভ্রমণ একঅর্থে আত্ম-আবিষ্কারের এক অন্য রূপ।

অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির মোকাবিলা

ভ্রমণ আমাদের মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেয় অনিয়ন্ত্রিত পুরুষদের মনোযোগ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে। আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ইভ-টিজিং-র সম্মুখীন হয়ে থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে অপ্রয়োজনীয় ওই সব মন্তব্যে আমরা বিশেষ আমল দিয়ে থাকি না। এছাড়া অনেক পরিবারের তরফে ছোটবেলা থেকে মেয়েকে শান্ত, ভদ্র হয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কয়েকটি বিশেষ বিশেষণে বেঁধে দেওয়া হয়ে থাকে তাঁর চারিত্রিক গুণাগুণকে। যারফলে সঠিক সময়ে কটু বা খারাপ মন্তব্যেরও যথাযথ উত্তর দিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। নিজেরা অনেকাংশেই অনেক বিষয়ে ভয় পেয়ে থাকি। পূর্ব কোনও ঘটনার স্মৃতিও মনের মধ্যে জোরালো প্রভাব ফেলে থাকে সেক্ষেত্রে। কিন্তু ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে পারি। যে বিষয়গুলোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা আমাদের ইতিপূর্বে ছিল না ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে তা রপ্ত করতে শিখে যাই। তাই একজন পরিণত মনস্কের মানুষ হয়ে ওঠার জন্য ভ্রমণ বিশেষভাবে প্রয়োজন।

ভ্রমণ আমাদের আরও শক্তিশালী করে তোলে

আমরা জীবনের প্রতি মুহূর্তে নিত্য-নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাই। ক্ষেত্রবিশেষে জীবন আমাদেরকে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি এনে দাঁড় করায় যে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিমিত শক্তি নিজেদের মধ্যে থাকে না। কার্যত ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে আমরা সেই শক্তি অর্জন করতে পারি। ভ্রমণ একপ্রকারে আমাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি ঠিক কীভাবে সামলাতে হবে সেই সম্পর্কেও শিক্ষা দিয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে ছোট একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, ট্রেকিং করতে গিয়ে পর্যাপ্ত জলের অভাব হয়েছে, অথচ বেস ক্যাম্পে ফিরে যাওয়াটাও সম্ভব নয়, কঠিন এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কীভাবে মানসিক স্থিতি বজায় রেখে ট্রেক সম্পূর্ণ করা যায় তার প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই আমরা কার্যত নিজেদেরকে শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম হই।

নিজ নিজ অভিজ্ঞতার যথার্থ প্রকাশ

ভ্রমণ বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া শুধুমাত্র আমাদের মনের আনন্দ দেয় না, পরিবর্তে আমাদের মনন এবং চিন্তন বিকাশের ধারাতেও বিশেষভাবে সহয়তা করে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে কোনও ট্রিপে গেলে আমরা অনেকগুলো বিষয় নতুন করে শিখতে পারি। জানতে পারি। অ্যাডজাস্টমেন্ট যার মধ্যে অন্যতম। একটা গ্রুপ ট্রিপে সকলেই যে কোনও একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হবে এমনটা কখনওই নয়, কাজেই সকলের মতের সঙ্গে তাল রেখে কীভাবে আনন্দ করা সম্ভব, সে বিষয়টিও আমরা শিখে যাই এই ভ্রমণের মধ্যে দিয়েই। এছাড়া ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা এবং সহযোগিতার ভাব জেগে ওঠে। আমাদের মধ্যে সহানুভূতিশীল মানসিকতারও প্রকাশ ঘটে, ভ্রমণের মধ্যে দিয়েই।

পরিশেষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা উল্লেখ করা যায় ভ্রমণ কিন্তু আমাদের যে প্রত্যেকের মধ্যে ‘আমি’কেন্দ্রিক ধারণা রয়েছে, সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। এই বিশ্বসংসারে আমাদের উপস্থিতি ক্ষণকালের। এই ক্ষণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের বিস্ময় আমাদের মুগ্ধ করে, আমাদের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশে সাহায্য করে। ভ্রমণের মাধ্যমেই তা একমাত্র সম্ভব। এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন আসতে পারে পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সেই বিষয়গুলো কেন সম্ভব নয়? উত্তর একটাই পরিবারের সংস্পর্শে আমরা নিজেদেরকে নিবিড়ভাবে, আনুবীক্ষণিক পর্যায়ে বিশ্লেষণ করার অবকাশ পাই না। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবকাশ তৈরি হয় না কারণ তার আগেই হয়তো পরিবারের কেউ সমস্যার উপযুক্ত সমাধান আমাদের বলে দিয়ে থাকে... নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে প্রাপ্ত জ্ঞানই হল প্রকৃত শিক্ষা। এই ধারণা গড়ে ওঠে একমাত্র ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে।

পুরুষ এবং নারী নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই নিজেদেরকে এইভাবে স্বপ্রকাশিত করার স্বাধীনতা রয়েছে।

নিজের বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ট্রিপোটোর সঙ্গে ভাগ করে নিন আর সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করুন।

বিনামূল্যে বেড়াতে যেতে চান? ক্রেডিট জমা করুন আর ট্রিপোটোর হোটেল স্টে আর ভেকেশন প্যাকেজে সেগুলো ব্যাবহার করুন

(এটি একটি অনুবাদকৃত আর্টিকেল। আসল আর্টিকেল পড়তে এখানে ক্লিক করুন!)