বিপদ যখন পায়ে পায়ে চলে : ভারতের কয়েকটি বিপজ্জনক সড়কপথ সম্পর্কে কয়েকটি কথা

Tripoto
Photo of বিপদ যখন পায়ে পায়ে চলে : ভারতের কয়েকটি বিপজ্জনক সড়কপথ সম্পর্কে কয়েকটি কথা 1/1 by Deya Das
এইসকল সড়কপথে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই গাড়ি চালাতে হয় (ছবি : সংগৃহীত)

গাড়ি চালানোর দক্ষতার মধ্যেই মিশে রয়েছে একজন চালক এবং যাত্রীর যাত্রাপথের অন্যতম সেরা আনন্দগুলো। এই রাস্তাগুলো কোথাও বাঁকা আবার কোথাও অসমতল কোথাও কোথাও উঁচু নিচু বক্ররেখা আবার কোথাও কোথাও বিপদগ্রস্ত ভয়ংকর সূক্ষ্ম রেখার একটি অংশবিশেষ। এই সবমিলিয়ে তৈরি সড়কপথগুলো আমাদের আলোচ্য বিষয়।

তাই আপনার গাড়ি চালানোর দক্ষতাকে প্রকাশ করার আগে জেনে নিন এই সব ভয়ঙ্কর সড়কগুলো সম্বন্ধে। যেখানে গাড়ি চালানোর জন্য দরকার অসম্ভব দক্ষতা এবং সাহসিকতা। তবে যদি আপনার কাছে বাইপাসে গাড়ি চালানোর জন্য আদর্শ পদ্ধতি নির্মিত ড্রাইভিং লাইসেন্সও থাকে, তবুও বলব আপনার এই রাস্তাগুলোতে ভ্রমণ না করাই ভাল।

১. কিলার-কিস্তওয়ার রোড:

উপরের ভিডিয়োটা দেখার পরে যদি আপনি এই রাস্তাটার নাম ‘কিলার-কিস্তওয়ার রোড’ পড়ে থাকেন তাহলেও আমরা আপনাকে কোন দোষ দিতে পারব না। হিমাচল প্রদেশের কিলারকে এবং জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ারকে একসূত্রে বেঁধে ফেলা এই একমুখী রাস্তা প্রসারিত হয়েছে আলগা মাটি, ভেঙে যাওয়া টুকরো টুকরো পাথর, ঝর্ণা এবং কয়েক হাজার ফুট বক্ররেখা পথে; যার একদিকে রয়েছে আপনার যানবাহন এবং অন্যদিকে সরু-গভীর গিরিখাত বা উপত্যকা।

এটিকে শুধু ভারতবর্ষের নয় পৃথিবীর সবথেকে ভয়ঙ্কর সড়কপথ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আনুমানিক দূরত্ব: ১২০ কিলোমিটার।

অতিক্রান্ত সময়: মোটামুটি ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

যাত্রার সময়:- মে থেকে জুন;সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর।

পথনির্দেশ:- কিলার - গুলাবগড়- কিস্তওয়ার।

২. জোজি লা (লে থেকে শ্রীনগর):

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১৫৭৫ ফুট উপরে, ভারতবর্ষের লে-শ্রীনগরের অন্তর্গত এন-এইচ ওয়ান-এর উপর অবস্থিত গিরিপথ হল জোজি লা। অত্যাশ্চর্য ভাবে আড়াআড়ি অবস্থা এই রাস্তায় রয়েছে খুব সরু পথ, আলগাভাবে জুড়ে থাকা পাথর, ভিন্নমুখী আবহাওয়া এবং সূক্ষ্ম বক্ররেখা; যেগুলো রাস্তাটিকে ভারতবর্ষের অন্যতম ভয়ঙ্কর সড়ক পথের রূপ দিয়েছে।

এই পথে গাড়ি চালিয়ে কিছুটা দূর যাওয়ার পরে যদি বিপরীতমুখী কোনও গাড়ি আপনার সামনে এসে উপস্থিত হয়,তাহলে গাড়িটি আপনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আপনার নিজেকে বড়ই অসহায় বলে মনে হবে। এখানকার নির্মম প্রকৃতি সবসময় আপনার গাড়ি চালানোর দক্ষতাকে পরীক্ষা করে চলবে। তবে সামান্য একটা ভুলও হতে পারে খুব ভয়ানক বা মারাত্মক।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ১০কিলোমিটার।

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ২ঘণ্টা।

যাত্রার সময় মে থেকে সেপ্টেম্বর।

পথনির্দেশ:- সোনামার্গ - জোজী লা - দ্রাস - কার্গিল - লে।

৩. উমলিং লা, লাদাখ:

১৯৩২৩ ফুট উঁচুতে অবস্থিত উমলিং লা ভারতবর্ষের অন্যতম ভয়ঙ্কর মোটর গাড়ি চালানোর রাস্তা গুলোর মধ্যে একটি ধরা যেতে পারে। উমলিং লা লাদাখের চিসুমলে এবং ডিমচক গ্রাম দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অভূতপূর্ব কিন্তু রাস্তা খুব সংকীর্ণ এবং এখানে দেহে অক্সিজেনের অভাব অনুভূত হলেও কিন্তু এই রাস্তায় এগিয়ে চলার জন্য আপনার গাড়ি আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়।উমলিং লা পৌঁছনোর জন্য প্রথমে আপনাকে নোংরা হাঁটু পর্যন্ত জল যুক্ত ভয়ঙ্কর ঢালু রাস্তা অতিক্রম করতে হবে আর এখানে যদি যানবাহন কোনও কারণে বিকল হয়ে যায় তাহলে বহু দূর দূরান্ত পর্যন্ত আপনাকে সাহায্য করার কেউ থাকবে না। তাই আপনাকে ৪×৪ মাপের কোন গাড়ির বন্দোবস্ত করে তাতে সমস্ত সরঞ্জাম গুছিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হল।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ১০৫ কিলোমিটার।

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি দেড় ঘণ্টা।

যাওয়ার সময়:- সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর।

পথনির্দেশ:-হানলে-উদুংলে-উমলিং লা -ডিমচক।

৪. মানালি- লে হাইওয়ে:

যদি আপনি এই স্থানের ভিডিয়োটি দেখে থাকেন তাহলে হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে মানালি রোড ভারতবর্ষে সর্বাপেক্ষা মনোরম সড়ক পথগুলোর মধ্যে একটি। এইজন্য আপনাকে আমরা সুপারিশ করব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মহিমায় মত্ত না হয়ে খুব সাবধানে এখানে এই রাস্তায় চলাচল করবেন। কারণ এখানে খুব বড় খাদ দেখতে পাওয়া যায় এবং এই রাস্তার বাঁকে আছে রেলিং-বিহীন তীক্ষ্ণ মোড়,যেগুলো আপনার চলাচলের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহতার সৃষ্টি করে। এছাড়াও এখানে খুব বেশি যানজট দেখতে পাওয়া যায়।

আর এর সঙ্গে যদি রোটাং পাসকে যুক্ত করা যায় তাহলে দেখা যাবে এই রাস্তাটি খুবই বিপজ্জনক। কারণ এখানে প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত কোন ফুয়েল স্টেশন নেই। আর এখানে প্রায় ২১ টি সারিবদ্ধ তীক্ষ্ণ মুখ বিশিষ্ট বাঁক রয়েছে যেগুলো ‘গাটা লুপস’ নামে পরিচিত। তাই প্রত্যেকটি পর্যটকদের জানানো হয় এখানে আসার আগে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আসা উচিত কারণ এখানে মৃত্যু যখন তখন হাতছানি দেয়।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ৪৭৫কিলোমিটার

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ১দিন

যাবার সময়:- জুন থেকে সেপ্টেম্বর

পথনির্দেশ:- মানালি - রোটাং লা - গাটা লুপস - তাংলাং লা - লে।

৫. কিন্নাউর রোড:

এন এইচ ফাইভ-এ অবস্থিত এবং পাথর দ্বারা নির্মিত হিমাচলের কিন্নাউর পর্যন্ত রাস্তাটি বেশ বিপজ্জনক এবং আক্ষরিক অর্থে এই রাস্তা দিয়ে চলমান গাড়িগুলো প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায় চলাচল করে। এই রাস্তার প্রতি পদে পদে সরু বাঁক এবং গভীর খাদ বিশিষ্ট উপত্যকা দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানকার রাস্তা খুব একটি সুগঠন সম্পন্ন নয় কিন্তু তারপরেও এখান দিয়ে রাস্তার ওজন অপেক্ষায় অনেক যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় এবং এটি খুবই কঠোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যেখান দিয়ে আপনার পক্ষে গাড়ি চালানো খুব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারান্দা ধানক কিন্নাউর-এর ছোট্ট একটি প্রসারিত রাস্তা যা অন্যতম ভয়ঙ্কর গমনপথ যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু অতীত জীবনের স্মৃতিকথা...

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ১৩০কিলোমিটার

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ১২ঘণ্টা

যাবার সময়:- মে থেকে জুনের মাঝামাঝি এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর

পথনির্দেশ:- রামপুর - সাংলা - কালপা - কিন্নাউর

৬. চ্যাং লা পাস:

১৭৫০০ ফুটের থেকেও উচ্চতায় অবস্থিত উচ্চতম চ্যাং লা পর্বত পাস ১৬০কিলোমিটার সড়ক পথ দ্বারা লে-এর সঙ্গে প্যানগং লেক কে সংযুক্ত করেছে। এখানকার সারাবছরের হতে থাকা ভারী তুষারপাত এবং কঠোর আবহাওয়া গাড়িচালককে সর্বদা শারীরিক অস্বস্তি এবং বমি বমি ভাব অবস্থার সৃষ্টি করে, যারা এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত নয় তাদের জন্য। চ্যাং লা-র সড়কপথ বেশ চড়াই এবং খাঁড়া তাই এই চড়াই পথে উঠতে গেলে বেশ দক্ষতা সম্পন্ন গাড়িচালকের প্রয়োজন।

তাই আপনি যদি খুব ভাল গাড়ি চালক না হন, তবে একা একা কোন ওষুধ,খাদ্য ও জ্বালানী ছাড়া জীবন ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ না করায় শ্রেয়।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ১৫কিলোমিটার

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ১ঘণ্টা

যাবার সময়:- মে থেকে জুন

পথনির্দেশ:- লে - কারু - শক্তি - চ্যাং লা - প্যানগং টস

৭. নেরাল-ম্যাথেরন রোড:

এই সড়কপথটি প্রাথমিকভাবে গাড়ি চালানোর জন্য খুব মসৃণ এবং সমতল হলেও ম্যাথেরন পর্যন্ত রাস্তাটি খাঁড়া হয়ে উঠে যাচ্ছে যা অনেক সময় গাড়ির চালক বুঝতে পারেন না এবং ৮ থেকে ৯ কিলোমিটারের মধ্যে যার উচ্চতা প্রায় ৭৫০ মিটার।

রাস্তার রেলিংহীন বাঁক এবং কুয়াশা আচ্ছন্ন এই কঠোর পথ সবসময় আপনি যতই ভাল গাড়ির চালক হল না কেন,আপনার গাড়ি চালানোর দক্ষতার পরীক্ষা নিয়ে যাবে । তাই সতর্কতার জন্য বলে রাখা ভাল যখন নেরাল-ম্যাথেরন সড়কপথে আপনি গাড়ি চালাবেন তখন অত্যাধিক সর্তকতা অবলম্বন করা প্রয়োজনীয়।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ৯কিলোমিটার

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ১ঘণ্টা

যাবার সময়:- এপ্রিল থেকে জুন,সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর

পথনির্দেশ:- নেরাল -ম্যাথেরন

৮.মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে, মহারাষ্ট্র:

ভারতবর্ষের সিক্স লেন হাইওয়ে নামটি যদি আপনি সর্বাপেক্ষা ভয়ঙ্কর রাস্তাগুলোর মধ্যে শুনে থাকেন, তাহলে ভুল হবেন না। কারণ ইতিহাসের পাতায় এই রাস্তাটি দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাস্তা হিসেবে পরিচিত। এখানকার যানবাহনের যানজট,চালকদের অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো এবং প্রচুর পরিমাণে যানবাহন চলাচল পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানোর থেকেও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করে।যদি আপনি এই পথে কখনো যাত্রা করেন, তাহলে উপরে উল্লেখিত সড়কপথ গুলোর মধ্যে এই যাত্রায় আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটময় যাত্রা হবে ।

আনুমানিক দৈর্ঘ্য:- ৯৪কিলোমিটার

অতিক্রান্ত সময়:- মোটামুটি ২ঘণ্টা

যাবার সময়:- বর্ষার কাল বাদে যে কোনও সময়

পথনির্দেশ:- মুম্বাই-লোনাভালা-পুনে

সুতরাং যদি আপনি এখনো মনে করে থাকেন আপনি যে কোনও সড়কপথে গাড়ি চালাতে পারবেন তাহলে ঠিক আছে আর যদি না পারে তাহলে অনুরোধ রইল নিচের কমেন্টসে অবশ্যই তাদের নাম জানাবেন যারা এই পথে তাদের দক্ষতা প্রকাশ করতে পারবেন

আর যদি সত্যি সত্যি আপনার এই সড়কপথে গাড়ি চালানোর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সেটি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন।

নিজের বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ট্রিপোটোর সঙ্গে ভাগ করে নিন আর সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করুন।

বিনামূল্যে বেড়াতে যেতে চান? ক্রেডিট জমা করুন আর ট্রিপোটোর হোটেল স্টে আর ভেকেশন প্যাকেজে সেগুলো ব্যাবহার করুন

(এটি একটি অনুবাদকৃত আর্টিকেল। আসল আর্টিকেল পড়তে এখানে ক্লিক করুন!)

Tagged:
#video