উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য উপত্যকা ঘিরেই রয়েছে অজানা বহু রহস্যের কথা... ব্রহ্মকমল রহস্য তাদেরই একটি

Tripoto
Photo of উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য উপত্যকা ঘিরেই রয়েছে অজানা বহু রহস্যের কথা... ব্রহ্মকমল রহস্য তাদেরই একটি 1/1 by Deya Das
পুরাণে উল্লিখিত ব্রহ্মকমল ফুলের একটি ছবি (সংগৃহীত)

ব্রহ্মকমল একটি ফুলের নাম, যেটি হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রধানত জন্মাতে দেখা যায় | ব্রহ্মকমল - এই নামটা হয়তো অনেকেরই অজানা, তবে পর্বতপ্রেমী মানুষেরা এই নামটির সঙ্গে বেশ পরিচিত | পর্বতের সমারোহে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে এই পাহাড়ি ফুলটির বিশেষ মর্যাদা আছে |

হিন্দু পুরাণ অনুসারে এই ফুলের বৈশিষ্ট্য

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী মনে করা হয়, সৃষ্টির আধার ভগবান ব্রহ্মা যে কমল ফুলের (পদ্ম ফুলের ) উপর উপবেশন করতেন, সেই ফুলটি হল এই ব্রহ্মকমল | আবার হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, দেবী পার্বতী তাঁর সন্তান গণেশের পুনঃজীবনের জন্য ব্রহ্মার কাছে অমৃত জলের সন্ধান করেন | ভগবান ব্রহ্মা সেই সময় দেবী পার্বতীর অনুরোধে এই ব্রহ্মকমল সৃষ্টি করেন | সেই প্রথা অনুসরণ করেই আজও এই ফুলের মধ্যে থাকা জলটিকে জীবন দায়ী এবং অমৃত সমান মনে করা হয় |

ফুলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

এই ফুলটি সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৪৫০০ মিটার উচ্চতায়, হিমালয়ের তরাই-ভাঙর অঞ্চলে প্রস্ফুটিত হয় | এই ফুলের অলৌকিক রহস্যটি হল এই ফুলটি বছরে মাত্র একবারই ফোটে | অর্থাৎ এই ব্রহ্মকমল গাছটিতে বছরে মাত্র একটিই ব্রহ্মকমল ফুল ফুটতে দেখা যায় | এই ফুলটি সাধারণত মধ্য রাতে প্রস্ফুটিত হয় | শ্বেতশুভ্রবর্ণের এই ফুলটি পাহাড়ের রুক্ষ্ম, শুষ্ক পরিবেশে, শীতল আবহাওয়ায়, দুর্গম স্থানে দেখতে পাওয়া যায় | কথিত আছে, যে মানুষ জীবনে একবার ব্রহ্মকমল প্রস্ফুটিত হতে সচক্ষে দেখেছে, তাঁর সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়েছে | ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি সুপ্রসিদ্ধ জ্যোতির্লিঙ্গ শ্রী কেদারনাথ মন্দিরে প্রতিদিন এই ব্রহ্মকমল অর্পণ করেই পূজার্চনা করা হয় |

প্রধান আকর্ষণ:

কেদারনাথ ধাম

কেদারনাথ ধামে দর্শনার্থীদের সমারোহ (ছবি সংগৃহীত)

Photo of Kedarnath Temple, Kedarnath, Uttarakhand, India by Deya Das

বাসুকি তাল ট্রেক:

সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের মোটামুটি রূপরেখা (ছবি সংগৃহীত)

Photo of Vasuki Tal, Uttarakhand by Deya Das

এই ব্রহ্মকমল দর্শনের পাশাপাশি আপনি ঘুরে আসতে পারেন প্রসিদ্ধ চারধাম যাত্রার একটি যাত্রা কেদারনাথ ধামে | উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার এই মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৩৫৮৩ মিটার উচ্চতায় এবং মন্দাকিনী নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত | চারদিকে পাহাড় বেষ্টিত মন্দিরের ঠিক পিছনের দিকে সুউচ্চ হিমালয়ের মনোমোহিনী রূপ, অন্যদিকে খরস্রোতা মন্দাকিনী নদীর শব্দ এবং মন্দিরের পরিবেশের মধ্যে স্বর্গীয় আমেজ, আপনাকে মুগ্ধ করবেই | গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথ ট্রেক করেও যেতে পারেন | এছাড়া ঘোড়া, ডুলি, এমনকি হেলিকপ্টার-এও পৌঁছতে পারেন |তবে প্রকৃতির নিগূঢ় রহস্যের সন্ধান পেতে চাইলে আপনাকে কিন্তু ট্রেক করেই যেতে হবে |

যাত্রাপথ: সহজসাধ্য

দূরত্ব: গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথ মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিমি

সময়: ৭ ঘণ্টা |

কেদারনাথ থেকে একদিনের ট্রিপে পৌঁছে যেতে পারেন বাসুকি তাল | মন্দাকিনী নদী পার করে, ছোট এবং খাড়াই পাহাড় পেরিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান বাসুকি তাল-এর উদ্দেশ্যে | এখানে আপনার সঙ্গী হিসেবে রয়েছে শুভ্র বরফাচ্ছন্ন হিমালয়, নীল আকাশ আর তার সঙ্গে সাদা মেঘের ভেলা | কিছু দূর এগোলেই দেখতে পাবেন পাহাড় বেয়ে ঝরণা ধারা নেমে আসছে, এই ঝরণাগুলো অদূরেই মন্দাকিনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে | প্রকৃতির এই অপরূপ এবং বিচিত্র শোভা দেখতে দেখতে সোজা পৌঁছে যান বাসুকি তাল | সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৪১৩৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই হিমবাহ লেকটি | লেকটির চারিদিকে পাহাড়ের বিন্যাস দেখলে মনে হয় কেউ যেন তাঁর রমণীয় প্রেয়সীকে দেহরক্ষী দ্বারা সুরক্ষিত করে রেখেছেন | একটু ভাল করে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, লেক তীরবর্তী স্থানে সারি বেঁধে ব্রহ্মকমল ফুলের কুঁড়ি ফুটে উঠছে | প্রসঙ্গত বলে রাখি, এই বাসুকি তাল এর রাস্তাটা খুবই দুর্গম | তার ট্রেকে যাওয়ার আগে সুদক্ষ পথ প্রদর্শক বা স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে যাওয়াই ভাল |

কাঠিন্য: অন্যান্য ট্রেক এর তুলনায় দুর্গম |

দূরত্ব: ৮ কিমি

সময়: প্রায় ১০ ঘণ্টা

ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ সময়:

ব্রহ্মকমলের উদ্দেশ্যে ট্রেক করার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় হল মে মাস - অক্টোবর মাস |

কাদের জন্য উপযুক্ত:

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্বতারোহীদের জন্য ব্রহ্মকমল ট্রেকটি উপযুক্ত বলতেই হবে |

কোথায় থাকবেন:

ব্রহ্মকমলের উদ্দেশ্যে ট্রেক করতে যেতে চাইলে আপনাকে কেদারনাথ মন্দিরের কাছের হোটেলগুলোকেই রাত্রিবাসের জন্য বেছে নিতে হবে | কেদারনাথে হোটেলে রাত্রি বাসের খরচ মোটামুটি ১৩০০ টাকা থেকে ১২,০০০ টাকার মধ্যে |

কীভাবে যাবেন:

ট্রেনে

ভারতের যে কোনও ছোট বড় শহর থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার অথবা দেরাদুন স্টেশন | হরিদ্বার থেকে ১১৪ কিমি অথবা দেরাদুন থেকে ১০৩ কিমি দূরত্বে অবস্থিত গৌরীকুণ্ডে পৌঁছে যান ১টা ছোট গাড়ি করে | গৌরীকুণ্ড থেকে ঘোড়ায়, ডুলি, হেলিকপ্টার বা ট্রেক আপনার পছন্দ মতো যাতায়াতের সুবিধা বেছে নিতে পারেন |

বিমানে

ভারতের যে-কোনও ছোট বড় শহর থেকে পৌঁছে যান দিল্লি বিমানবন্দর| দিল্লি থেকে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন দেরাদুন নিকটবর্তী জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরে | বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৯৬ কিমি পেরোলেই আপনিই পেয়ে যাবেন গৌরীকুণ্ড |

নিজের বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ট্রিপোটোর সঙ্গে ভাগ করে নিন আর সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করুন।

বিনামূল্যে বেড়াতে যেতে চান? ক্রেডিট জমা করুন আর ট্রিপোটোর হোটেল স্টে আর ভেকেশন প্যাকেজে সেগুলো ব্যাবহার করুন।