সিকিমের ছোট্ট গ্রাম ইয়াকসম - পাহাড়ি শান্তির খোঁজে পশ্চিম সিকিমের প্রান্তে...

Tripoto
Photo of সিকিমের ছোট্ট গ্রাম ইয়াকসম - পাহাড়ি শান্তির খোঁজে পশ্চিম সিকিমের প্রান্তে... 1/1 by Aninda De
ছবি সংগৃহীত

ঘুরতে যাওয়া অনেক রকমের। কেউ কেউ ঘুরতে যায় নতুন জায়গা দেখতে, কেউ কেউ যায় রোমাঞ্চের নেশায়, আবার কারো দাবি নিখাদ অবসর। শেষ দুপুরের আলসেমি মেখে মন ভাল করার জন্যই তাদের দূরদূরান্ত অবধি বার বার ছুটে যাওয়া। পশ্চিম সিকিমের শেষ দিকে রয়েছে এমনি এক জায়গা ইয়াকসম, ছোট্ট নিরিবিলি জায়গা যেখানে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে আসা যায় বেশ কিছু দিন। এক কালে ইয়াকসম ছিল সিকিমের প্রথম রাজধানী, কিন্তু বর্তমানে শহুরে ঝুটঝামেলার থেকে অনেকটা দূরে থাকা ইয়াকসম যেন এক স্বর্গরাজ্য।

ইয়াকসমের ইতিহাস

১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে ফুন্টসগ নামগিয়াল কে সিকিমের প্রথম চোগ্যাল বা রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। সিকিমের রাজনৈতিক, সামাজিক, সামরিক এবং ধর্মীয় গুরু বলে জনগণ তাঁকেই মেনে নেন। এই অভিষেক স্থলটি পরিচিত হয় নোরবুগাঙ্গের সিংহাসন রূপে এবং এই নোরবুগাঙ্গ চর্তেনকে কেন্দ্র করেই বেড়ে ওঠে ঐতিহাসিক ইয়াকসম। ৩৩৩ বছর ধরে চলে আসা চোগ্যাল শাসনব্যবস্থায় ইয়াকসম হয়ে উঠেছিল সিকিমের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পীঠস্থান।

কাঞ্চনজঙ্ঘার পাদদেশে ইয়াকসম

ইয়াকসমের অবস্থান কাঞ্চনজঙ্ঘা জাতীয় উদ্যানের একেবারে উপরের দিকে। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণের জন্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্বতারোহীরা এই স্থানটিকেই তাঁদের প্রাথমিক বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেন। বিখ্যাত ইয়াকসম-জংগরী ট্রেকে যেতে চাইলে শুরু করতে হবে ইয়াকসম থেকে। আর জংগরী ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে গেলে পর্যটকরা পাবেন দুরূহ গোচেলা ট্রেকের সন্ধান।

ইয়াকসম এবং ইকো-ট্যুরিজম

ইয়াকসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এখানে ইকো-ট্যুরিজমের প্রসার এবং জনপ্রিয়তা। যদিও সিকিমের প্রতিটি জায়গাতেই পরিবেশ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুবই নিবিড়, ইয়াকসমে তা পেয়েছে আলাদা মাত্রা। রথং চু উপত্যকার অন্তর্গত এই স্থানের জীব-বৈচিত্র্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশ দরদী ভূমিকার কারণে সমগ্র বিশ্বের কাছে ইয়াকসম মডেল ইকো-ট্যুরিজম ভিলেজ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

ইয়াকসমে কী কী করবেন - আগ্রহী পর্যটকদের জন্যে ইয়াকসমে রয়েছে বিভিন্ন রকম অ্যাকটিভিটি

ঘুরে আসুন করোনেশন পার্ক : ইয়াকসমের সৃষ্টির স্মৃতির উদ্দ্যেশে এবং প্রথম চোগ্যালের অভিষেককে চিরস্বরণীয় করে রাখতে তৈরি হয়েছে করোনেশন পার্ক। ভিতরে রয়েছে নানান স্মৃতিসৌধ এবং ঠিক পাশেই রয়েছে চর্তেন এবং মোনাস্ট্রি। পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পার্ক।

দেখে আসুন ইয়াকসমের বিভিন্ন মনেস্ট্রি : ইয়াকসম সিকিমের অন্যতম পুরনো জনবসতি, তাই সিকিমের সবথেকে ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ মনেস্ট্রিগুলির সিংহভাগ রয়েছে ইয়াকসমের চারিপাশে। দেখে আসতে পারেন দুবদি, সিনোন এবং হংরি গুম্ফা।

অলস দুপুর কাটান কথোক লেকের তীরে : করোনেশন পার্কের কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক কথোক লেক, যেখানে এখনো রয়েছে চোগ্যালকে অভিষেক দেওয়া তিন লামার একজনের পদচিহ্ন। কথোক লেকে রয়েছে প্রচুর রঙ বেরঙের মাছ, যাদেরকে অল্প কিছু খাবার খাইয়ে পর্যটকরা পুণ্য সঞ্চয় করে থাকেন।

জলপ্রপাতের খোঁজে চলুন : ইয়াকসম থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে ফামরং ফলস, যা সিকিমের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। আর ইয়াকসম থেকে পেলিঙের দিকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দুরত্বে রয়েছে বিখ্যাত কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস। প্রবল বিক্রমে বেয়ে চলা এই ফলসের কাছেই রয়েছে বহু ছোট ছোট মোমোর দোকান, সেগুলো কিন্তু একেবারেই মিস করা উচিৎ নয়।

নেমে চলুন রিম্বি অরেঞ্জ গার্ডেনে : রথং চু নদীর তীরে গড়ে উঠেছে রিম্বি অরেঞ্জ গার্ডেন। প্রধান রাস্তা থেকে অল্প ট্রেক করে নীচে নামলেই আপনি চলে আসবেন কমলালেবুর এই বাগানের মধ্যে। আরও নীচে নেমে এলে নদীর পাড়ে করতে পারেন বার্ডওয়াচিং। আছে লোকাল ফ্রুট ওয়াইন আর গরম গরম টাটকা ম্যাগি মোমোর দোকান-ও।

ভিড়ের থেকে দূরে সরে করুন বিশ্রাম : ইয়াকসম পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হলেও, এখানে বেশিরভাগ পর্যটকরা আসেন দূর থেকে ডে-ট্রিপে বা ট্রেকিং করতে। তাই প্রধান ট্যুরিস্ট স্পট গুলি বাদে কিন্তু বাকি ইয়াকসম নিরবিচ্ছিন্ন নিবিড় শান্তির নীড়। স্বচ্ছন্দে দুদিন নির্জনে কাটাতে চাইলে চলে আসতে পারেন ইয়াকসমের হোম-স্টে গুলিতে।

নিজের বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ট্রিপোটোর সঙ্গে ভাগ করে নিন আর সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য পর্যটকদের অনুপ্রাণিত করুন।

বিনামূল্যে বেড়াতে যেতে চান? ক্রেডিট জমা করুন আর ট্রিপোটোর হোটেল স্টে আর ভেকেশন প্যাকেজে সেগুলো ব্যবহার করুন।